নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত বর্তমানে এক পরিবর্তনশীল ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির মাঝেও সঠিক পরিকল্পনা ও আস্থার ওপর ভর করে খাতটি নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে। রিয়েল এস্টেট খাতের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগের সুযোগ, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন স্ট্যাবল হোল্ডিংস লিমিটেড (Stable Holdings Ltd.)-এর এজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এবং আরইপি (REP)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির (EC) সদস্য সুপ্তি ব্যানার্জী (Supti Banerjee)।
সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ:
বাজারের বর্তমান অবস্থা ও মূল চ্যালেঞ্জ
সুপ্তি ব্যানার্জী মনে করেন, বর্তমান আবাসন বাজারকে মন্দা হিসেবে না দেখে “সচেতন ক্রেতা ও বাছাই করা বিনিয়োগের বাজার” হিসেবে দেখা উচিত। এখন কেবল প্রকল্পের অবস্থান নয়—ডেভেলপারের বিশ্বাসযোগ্যতা, নির্মাণমান ও সময়মতো হস্তান্তরের সক্ষমতা ক্রেতার সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। তবে জমি ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এই খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও অপচয় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিনিয়োগের এলাকা ও সেকেন্ডারি মার্কেট
ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা নতুন সম্প্রসারিত এলাকাগুলোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প নগরীগুলোতে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আগে কেবল প্রচারণায় না ভুলে জমির নথিপত্র এবং বাস্তব সুবিধা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সুস্থ আবাসন খাতের জন্য রি-সেল (Resale) বা সেকেন্ডারি মার্কেট অর্গানাইজড হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা প্রপার্টিকে আরও লিকুইড এসেটে (Liquid asset) পরিণত করবে।
প্রযুক্তি (PropTech & AI) ও নতুন দিগন্ত
ভবিষ্যতে রিয়েল এস্টেট খাত প্রযুক্তি নির্ভর হতে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল প্রপার্টি ট্যুর, ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন, ক্রেতার পছন্দ বিশ্লেষণ এবং ডেটা-ভিত্তিক সম্পত্তি মূল্যায়নে PropTech ও AI যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও নির্ভুল ও দ্রুত করতেই এটি ব্যবহৃত হবে।
ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ ও টেকসই উন্নয়ন
প্রপার্টি কেনার আগে শো-রুম বা ব্রোশারের বাইরে গিয়ে জমির মালিকানা, নামজারি, অনুমোদন এবং হস্তান্তরের সময়সীমা যাচাই করার পরামর্শ দেন সুপ্তি ব্যানার্জী। টেকসই আবাসন ব্যবস্থার জন্য তিনি সরকারি নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অটোমেশন এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর তাগিদ দেন।
“রিয়েল এস্টেট খাতে আস্থা তৈরি হয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মাধ্যমে। আগামী দিনের সফল প্রতিষ্ঠান তারাই হবে, যারা শুধু কতগুলো ইউনিট বিক্রি করল তা দিয়ে নিজেদের মাপবে না, বরং কতটা আস্থা ও মানসম্মত আবাসন উপহার দিল তা দিয়ে নিজেদের সাফল্য চিহ্নিত করবে।”
— সুপ্তি ব্যানার্জী
এজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), স্ট্যাবল হোল্ডিংস লিমিটেড
কার্যনির্বাহী সদস্য, REP












