দেশের আবাসন শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ খাতের টেকসই বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আবাসন খাতের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করে আবাসন উন্নয়নকে টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস-সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির বৈঠকের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নের ফলে সৃষ্ট বাস্তব সমস্যাসহ আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রিহ্যাবের প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবি জানায়। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সেবাগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণে যৌক্তিক ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নির্ধারণ এবং উলম্ব নগরায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানায় রিহ্যাব প্রতিনিধিদল।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরায়নকে শুধু রাজধানী ঢাকা-কেন্দ্রিক রাখলে হবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও শহরগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় কৃষিজমি সংরক্ষণ ও এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ এবং ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।











