২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট: সংকট নয়, বরং বড় পরিবর্তনের সময়

উচ্চ সুদ, ক্রয়ক্ষমতার চাপ, DAP, কর, নির্মাণ ব্যয় ও ক্যাশফ্লো সংকটের মধ্যেও কেন বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেটের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা রয়েছে

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের বর্তমান অবস্থা দেখলে প্রথমেই মনে হতে পারে, এই শিল্পের ভবিষ্যৎ হয়তো খুব একটা ভালো নয়। বিক্রি আগের তুলনায় ধীর, অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন, বুকিং হওয়ার পরও কিস্তি আদায়ে সমস্যা হচ্ছে, নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, ব্যাংকঋণের সুদ অনেকের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে নীতিগত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু আমার বিশ্লেষণে বিষয়টি একটু ভিন্ন। আমি মনে করি, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বাজার শেষ হয়ে যাচ্ছে না; বরং পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল থেকে নতুন, আরও বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও আর্থিকভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণ একটি মডেলে যাওয়ার কঠিন সময় পার করছে।

বিশেষ করে ল্যান্ড ডেভেলপার এবং মাঝারি আকারের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এখন সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। কারণ একজন ডেভেলপারকে শুধু জমি কিনে বা জমির মালিকের সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি করে প্রকল্প শুরু করলেই হয় না। একই সঙ্গে তাকে জমির মূল্য, অনুমোদন, অবকাঠামো, নির্মাণ ও উন্নয়ন ব্যয়, ব্যাংক ফাইন্যান্সিং, কর, বিক্রয়, মার্কেটিং, কাস্টমারের আস্থা, কিস্তি আদায় এবং সরকারি নীতির পরিবর্তনের ঝুঁকি সামলাতে হয়। ফলে বর্তমান সংকটকে শুধু ‘বিক্রি কমে গেছে’ বলে ব্যাখ্যা করলে বাস্তব সমস্যার খুব ছোট একটি অংশই দেখা হবে।

তারপরও বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা, নগরায়ণ, নতুন পরিবার সৃষ্টি, কর্মসংস্থানের জন্য শহরমুখী মানুষের সংখ্যা এবং ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার ক্রমাগত সম্প্রসারণ—সবকিছু বিবেচনা করলে দীর্ঘমেয়াদে আবাসন ও জমির চাহিদা থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা জেলার built-up area প্রায় ৫৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব পাওয়া গেছে। দ্রুত নগর সম্প্রসারণের এই চিত্র একই সঙ্গে আবাসনের চাহিদা এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ demand একেবারে নেই—এটি নয়। বরং সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, ডেভেলপার যে দামে বর্তমানে একটি ফ্ল্যাট, প্লট বা অন্য কোনো property বাজারে দিতে পারছেন, সম্ভাব্য ক্রেতাদের একটি বড় অংশ সেই দামে কিনতে পারছেন না। অর্থাৎ বাজারে প্রয়োজন আছে, আগ্রহ আছে, enquiry-ও আছে; কিন্তু সেই আগ্রহকে বাস্তব booking-এ পরিণত করার মতো affordability অনেক ক্ষেত্রে নেই। বর্তমান রিয়েল এস্টেট সংকটের কেন্দ্রবিন্দু মূলত এখানেই।

ঢাকা এবং এর আশপাশের ভালো লোকেশনে জমির মূল্য অনেক বেড়েছে। একজন ডেভেলপার যখন একটি জমি কিনছেন, তখন তার প্রকৃত project cost শুধু জমির দাম নয়। এর সঙ্গে development বা construction cost, infrastructure, approval, finance cost, tax, marketing, sales commission, office ও management expense এবং একটি যৌক্তিক profit margin যুক্ত হয়। ফলে জমির দাম যত বাড়ে, পুরো প্রকল্পের break-even cost তত উপরে উঠে যায়। শেষ পর্যন্ত developer-কে selling price বাড়াতে হয়। কিন্তু buyer-এর আয় যদি একই গতিতে না বাড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই affordability gap তৈরি হয়। এই কারণে middle-income buyer বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদের হার। Real estate একটি long-term financing নির্ভর business এবং বাংলাদেশের middle-income buyer-এর বড় অংশের জন্য home loan একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ঋণের সুদ যখন বেশি থাকে, তখন একটি ফ্ল্যাটের প্রকৃত দাম শুধু তার selling price-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘমেয়াদি loan-এর interest যোগ হয়ে buyer-এর monthly EMI অনেক বেড়ে যায়। একজন buyer তখন হিসাব করে দেখেন, property কেনার পর তাকে প্রতি মাসে যে EMI দিতে হবে, সেটি তার household income-এর ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। ফলে property প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ‘এখন না, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করি।’ এই অপেক্ষার সিদ্ধান্ত হাজার হাজার buyer একই সময়ে নিলে পুরো market-এর sales velocity কমে যায়।

এখানেই একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হয়। উচ্চ সুদের কারণে EMI বাড়ে, EMI বাড়ার কারণে buyer purchase decision পিছিয়ে দেন, purchase পিছিয়ে যাওয়ার কারণে booking কমে, booking কমলে developer-এর collection কমে এবং collection কমে গেলে construction ও development activity-এর ওপর চাপ পড়ে। ফলে buyer এবং developer—দুই পক্ষই একই সমস্যার ভিন্ন দুই প্রান্তে আটকে যায়।

বর্তমান বাজার বোঝার জন্য আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। Real estate sales team প্রায়ই বলে, ‘Enquiry অনেক আসছে।’ কিন্তু enquiry এবং qualified buyer এক বিষয় নয়। কেউ Facebook advertisement দেখে message করেছেন, price জানতে চেয়েছেন, brochure নিয়েছেন বা site visit করেছেন—এতে প্রমাণ হয় না যে তিনি আগামী ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যে property কিনতে পারবেন। প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত, enquiry-এর মধ্যে financially capable এবং purchase-ready buyer কতজন।

দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মানুষের disposable income-এর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একটি middle-income family-এর কাছে খাদ্য, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত, পারিবারিক খরচ এবং emergency savings আগে আসে। Property তার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু immediate priority নাও হতে পারে। ফলে বাজারে lead আছে, site visit আছে, negotiation আছে—কিন্তু booking conversion কম। আগামী দিনের real estate sales management-এ তাই শুধু কতগুলো lead এসেছে সেটি দিয়ে performance বিচার করলে হবে না; qualified lead, site visit conversion, booking conversion, collection ratio এবং customer acquisition cost দেখতে হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই বাজারকে প্রভাবিত করেছে। Real estate অন্য অনেক business-এর তুলনায় অনেক বেশি confidence-driven। কারণ একজন buyer একটি property কেনার সময় হয়তো তার জীবনের বড় অংশের সঞ্চয় বিনিয়োগ করছেন। তিনি শুধু আজকের বাজার দেখেন না; আগামী পাঁচ, দশ বা বিশ বছর নিয়েও চিন্তা করেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে uncertainty তৈরি হলে তিনি সাধারণত বড় investment decision পিছিয়ে দেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাজারে এমন একটি wait-and-see attitude তৈরি হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন industry report-এ উঠে এসেছে। Booking cancellation, investor pullback এবং installment collection কমে যাওয়ায় developer cash flow-এর ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

DAP, FAR এবং RAJUK approval-এর বিষয়টিও এখন project feasibility-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগে একটি ভালো location-এর জমি পেলেই developer হয়তো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এখন শুধু location দেখে project নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জমির land use কী, road width কত, allowable FAR কত, building height কত হতে পারে, setback requirement কী, parking requirement কত, approval পাওয়া সম্ভব কি না এবং সবশেষে কতটুকু saleable area পাওয়া যাবে—এই সবকিছু আগে হিসাব করতে হচ্ছে।

ধরা যাক, একজন developer ১০ কাঠা জমির ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ saleable area পাওয়ার assumption করে landowner-এর সঙ্গে agreement করলেন। পরবর্তীতে regulatory calculation অনুযায়ী যদি allowable development কমে যায়, তাহলে developer-এর land cost বা landowner share খুব বেশি পরিবর্তন হবে না, কিন্তু তার saleable area কমে যাবে। এর অর্থ প্রতি saleable square foot-এর প্রকৃত cost বেড়ে যাবে। ফলে যে project কাগজে লাভজনক মনে হয়েছিল, approval-এর পর সেটিই financially challenging হয়ে যেতে পারে। এই কারণে ভবিষ্যতে land acquisition বা joint venture agreement করার আগে detailed feasibility study ছাড়া এগোনো উচিত নয়।

Property registration cost, tax এবং transaction-related বিভিন্ন ব্যয়ও buyer এবং developer—দুই পক্ষকেই প্রভাবিত করে। একজন buyer শুধু property-এর quoted price দেন না; registration ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে তার total acquisition cost অনেক বেড়ে যায়। একইভাবে landowner-developer joint venture structure-এর ওপর নতুন কোনো tax burden তৈরি হলে landowner-এর expected return-এর হিসাব পরিবর্তিত হয়। Landowner তখন developer-এর কাছে বেশি share বা financial benefit চাইতে পারেন। Developer-এর cost বাড়লে সেই cost শেষ পর্যন্ত selling price-এর ওপর চলে আসে এবং buyer-এর affordability আরও কমে যায়। অর্থাৎ tax policy-এর একটি পরিবর্তন পুরো value chain-এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Construction cost-ও developer-দের বড় সমস্যায় ফেলেছে। Rod, cement, bricks, sand, tiles, electrical materials, sanitary products, labour এবং transportation—প্রায় সবকিছুর cost বেড়েছে। এই অবস্থায় developer-এর সামনে সহজ কোনো সিদ্ধান্ত থাকে না। Price বাড়ালে buyer কমে যেতে পারে, price না বাড়ালে profit margin কমে যেতে পারে, আবার project slow করলে customer dissatisfaction এবং handover delay তৈরি হতে পারে। ফলে construction cost inflation developer-কে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই একটি financial consequence রয়েছে।

তবে আমার মতে বর্তমান real estate business-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়—সেটি হলো cash flow। Real estate business মূলত cash-flow driven business। ধরুন, একজন developer ১০০ কোটি টাকার একটি project করছেন। তার অর্থ আসছে booking money, customer installment, developer equity, investor capital, bank finance এবং landowner structure-এর মাধ্যমে। Project-এর construction, salary, office expense, land payment, bank interest এবং marketing cost নিয়মিত দিতে হচ্ছে। কিন্তু sales slow হয়ে customer collection কমে গেলে project-এর financial structure খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

ধরা যাক, একটি project চালু রাখতে প্রতি মাসে দুই কোটি টাকা প্রয়োজন, কিন্তু booking এবং installment থেকে collection হচ্ছে মাত্র ৮০ লাখ টাকা। তাহলে প্রতি মাসে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার cash-flow gap তৈরি হচ্ছে। Developer নিজের capital দিয়ে কয়েক মাস এই gap পূরণ করতে পারেন, loan নিয়ে আরও কিছুদিন চালাতে পারেন, কিন্তু এটি দীর্ঘদিন sustainable নয়।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, cash-flow crisis নিজেই আরেকটি crisis তৈরি করে। Collection কমে গেলে construction slow হয়। Construction slow হলে existing customer চিন্তিত হন। Customer project-এর progress নিয়ে সন্দিহান হলে installment দিতে দেরি করেন। নতুন buyer site visit করে slow construction দেখলে booking করতে চান না। ফলে collection আরও কমে যায় এবং construction আরও slow হয়। এভাবেই একটি project vicious cycle-এর মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

পুরোনো real estate model-এর একটি বড় দুর্বলতাও এখানে সামনে আসছে। দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারে অনেক সময় একটি project-এর booking ও installment collection থেকে অন্য project-এর land acquisition বা operational expense পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। Market ভালো থাকলে এবং continuous sales থাকলে এই model বাইরে থেকে সফল মনে হয়। কিন্তু sales velocity কমে গেলে cross-project cash dependency অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আগামী দিনের developer-কে তাই project-wise bank account, project-wise cash-flow statement এবং fund utilisation-এর ওপর কঠোর financial discipline তৈরি করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে ছোট ও মাঝারি developer সবাই যে হারিয়ে যাবে, তা নয়। তবে আগামী কয়েক বছরে market consolidation হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের debt বেশি, project-wise accounting নেই, customer money uncontrolledভাবে এক project থেকে অন্য project-এ যায়, land acquisition-এর আগে feasibility analysis দুর্বল, management overhead বেশি এবং emergency liquidity reserve নেই—তাদের জন্য বাজার কঠিন হতে পারে। বিপরীতে যেসব company-এর balance sheet শক্তিশালী, debt তুলনামূলক কম, project selection disciplined এবং customer trust ভালো, তারা এই challenging market-এর মধ্যেও নতুন opportunity তৈরি করতে পারবে।

আমার মতে, আগামী দিনের successful real estate company শুধু ‘জমি কিনে project launch’ করার company হবে না। তাকে একই সঙ্গে financial planning, market research, customer service, technology এবং asset management বুঝতে হবে। একটি project launch করার আগে land cost, FAR, approval feasibility, construction cost, financing cost, tax, marketing expense, expected selling price, expected sales velocity, break-even point এবং worst-case scenario—সবকিছু হিসাব করতে হবে। Project ভালো লাগছে বলে project নেওয়ার সময় শেষ হয়ে আসছে; project financially sustainable কি না সেটিই হবে মূল প্রশ্ন।

Product strategy-তেও পরিবর্তন আসবে। বড় apartment বা বড় plot সব buyer-এর জন্য affordable নয়। Market অনুযায়ী efficient unit size, smaller ticket-size property, flexible installment, bank partnership এবং structured payment model আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। Buyer-এর প্রয়োজন বুঝে product design করতে হবে। আগে developer ভাবতেন, ‘ভালো location হলে বিক্রি হবেই।’ আগামী দিনে তাকে ভাবতে হবে, ‘এই location-এ কোন product, কত square feet, কোন price point এবং কোন payment structure-এ buyer কিনতে পারবে?’

Customer trust-ও আগামী দিনের সবচেয়ে বড় capital হয়ে উঠবে। Buyer এখন শুধু brochure, billboard অথবা সুন্দর 3D visualization দেখে property কিনতে চান না। তিনি জানতে চান land title clear কি না, approval আছে কি না, construction কতদূর হয়েছে, project-এর টাকা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, handover date বাস্তবসম্মত কি না এবং developer-এর আগের project-এর delivery record কেমন।

এই জায়গায় technology বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ERP বা customer portal-এর মাধ্যমে buyer যদি নিজের payment statement, installment schedule, project progress, documents, construction update এবং communication history দেখতে পারেন, তাহলে developer-এর ওপর তার আস্থা বাড়বে। ভবিষ্যতে transparency শুধু management-এর বিষয় থাকবে না; transparency নিজেই একটি marketing advantage হয়ে উঠবে।

Land development business-এও একই পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু তিন কাঠা, পাঁচ কাঠা বা দশ কাঠার plot বিক্রি করাই যথেষ্ট হবে না। Buyer জানতে চাইবেন infrastructure কবে হবে, road development কী অবস্থায় আছে, utility connection কীভাবে হবে, title ও registration কতটা সহজ, resale market আছে কি না এবং পাঁচ বা দশ বছর পরে ওই এলাকার commercial বা residential potential কী হতে পারে। অর্থাৎ land developer-কে ধীরে ধীরে শুধু land seller থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ asset solution provider-এ পরিণত হতে হবে।

আমার বিশ্লেষণে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সময়টি বাংলাদেশের real estate industry-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ transformation period হতে পারে। এই সময়ে সব company একইভাবে grow করবে না। কেউ নতুন land acquisition কমাবে, কেউ project সংখ্যা কমিয়ে existing project completion-এর ওপর গুরুত্ব দেবে, কেউ strategic investor নেবে, কেউ joint venture model পরিবর্তন করবে, কেউ premium segment-এ focus করবে এবং কেউ middle-income buyer-এর জন্য affordable housing model তৈরি করবে। কিছু company হয়তো merger, partnership বা consolidation-এর পথেও যেতে পারে।

এই পরিবর্তনকে আমি পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখি না। বরং এটি industry-কে আরও professional, accountable এবং financially disciplined করতে পারে। দুর্বল business model ধীরে ধীরে market থেকে বাদ পড়বে এবং যেসব company বাস্তব demand বুঝে product তৈরি করবে, cash flow নিয়ন্ত্রণ করবে, customer money responsibly manage করবে এবং commitment অনুযায়ী delivery দেবে—তাদের জন্য বড় opportunity তৈরি হবে।

বর্তমান বাজারে তাই সবচেয়ে বড় সুযোগ বেশি project launch করার মধ্যে নয়; বরং ভুল project launch না করার মধ্যে। একটি ভালো location-এর জমি পাওয়া মানেই profitable project নয়। Land price, regulatory capacity, buyer profile, unit size, selling price, payment structure এবং sales velocity—সবকিছুর সমন্বয় হলেই একটি sustainable project তৈরি হয়।

সবশেষে আমি মনে করি, বাংলাদেশের real estate শেষ হয়ে যাচ্ছে না। মানুষ থাকবে, নতুন পরিবার তৈরি হবে, শহর সম্প্রসারিত হবে, কর্মসংস্থানের নতুন কেন্দ্র তৈরি হবে এবং মানুষের আবাসন, জমি ও commercial space-এর প্রয়োজন থাকবে। তাই real estate-এর fundamental demand দীর্ঘমেয়াদে হারিয়ে যাওয়ার কারণ নেই।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—গত ১৫ বছর যে business model কাজ করেছে, আগামী ১৫ বছর সেটি একইভাবে কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

আগামী দিনের সফল developer শুধু Property Seller হবে না। তাকে একই সঙ্গে Financial Planner, Asset Manager, Technology-driven Service Provider এবং Trusted Development Partner হতে হবে।

বর্তমান সময়কে তাই শুধু crisis হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের real estate industry-এর correction, consolidation এবং transformation-এর সময়।

যেসব প্রতিষ্ঠান এখন থেকেই কম debt, শক্তিশালী cash-flow management, সঠিক land selection, বাস্তবসম্মত pricing, buyer affordability, technology, transparency এবং timely delivery-এর ওপর গুরুত্ব দেবে, আমার বিশ্বাস আগামী দশকে তারাই বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

ইনানির পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা ,বিলাসবহুল আতিথেয়তা ও বিনিয়োগের নতুন ঠিকানা ‘Salt Bay’

ইনানির পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা ,বিলাসবহুল আতিথেয়তা ও বিনিয়োগের নতুন ঠিকানা ‘Salt Bay’

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ও ইনানি সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার...