৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুরান ঢাকা ঘুরে দেখুন ৫০০ বছরের পুরোনো কাজীবাড়ি, চেখে দেখুন ঐতিহ্যবাহী খাবার

সাকরাইনে কাজীবাড়ির ছাদ সব সময়ই সবার কাছে আকর্ষণীয়ছবি: সংগৃহীত

সাকরাইনে কাজীবাড়ির ছাদ সব সময়ই সবার কাছে আকর্ষণীয়। ইতিহাস আর ঐতিহ্যে মোড়া কলতাবাজারের এই বাড়িতে এখন যে কেউ আতিথেয়তাও নিতে পারেন। এই বাড়িতে চালু হয়েছে হেরিটেজ লাঞ্চ ও ডিনার।

আগে থেকে ফোন করে এক বিকেলে চলে গেলাম। কাজীবাড়ির দায়িত্বে এখন কাজী সাদউল্লাহ হিল আলীম ও তাঁর বড় ভাই কাজী এহসান উল আলীম। আমার অপেক্ষাতেই ছিলেন সাদ আলীম। দিনের আলো থাকতে থাকতেই মূল বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার ছবি তুললাম। ফাঁকে ফাঁকে বাড়ির ইতিহাস বলে গেলেন সাদ আলীম।

কাজীবাড়ির ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। আর ১৮২০ সালে বর্তমান বাড়িটি তৈরি করেন কাজী মির্জা এলাহি বকস। তিনি সাদের পঞ্চম পুরুষ। ১৮৯২ সালে শহর কাজী নিযুক্ত হন কাজী আব্দুর রউফ। সেই থেকে বাড়িটির নাম হয়ে যায় কাজীবাড়ি।

কাজীবাড়ি মূলত একটা হাভেলি। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ভাগ। থাকার ঘর, বৈঠকখানা, কিতাবখানা, অন্দরমহল। কাজীবাড়িতে দুটি বৈঠকখানা ছিল। একটি দোতলায়, অন্যটি নিচতলায়। নিচতলার বৈঠকখানা এখন গুদামঘর। দোতলারটি আগের মতোই সুসজ্জিত। কিতাবখানার পাশের কক্ষে পালঙ্ক, সোফা, শোকেস, গ্রামোফোনসহ আগেকার দিনের অনেক আসবাব। বৈঠকখানার পাশের টানা বারান্দাটা অসাধারণ। এরপর খাবার ঘর। বিশাল খাবার টেবিলটায় আমাকে নিয়ে বসান সাদ আলীম। চা খেতে খেতে চলে গল্প।

৫০০ বছরের ইতিহাসে ঠাসা বাড়িটি আপনিও ঘুরে আসতে পারেনছবি: সংগৃহীত
অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা এখানে নেই। শুধু ঘুরে বেড়ানো আর খাওয়াদাওয়া। কমপক্ষে ৬ থেকে ১০ জনের একটি দলকে এক বেলার জন্য বাড়িতে আসার সুযোগ দেওয়া হয়। অফিসপাড়ার লোকজনও যোগাযোগ করেন। কেউ গেট টুগেদারের জন্য বুকিং দেন, আবার অনেকেই আসেন ইতিহাসের টানে। পুরো বাড়ি ঘুরে দেখার পর এখানে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সব খাবার পরিবেশন করেন কাজীবাড়ির বর্তমান বংশধরেরা। বিশাল খাবার টেবিলের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত সাজিয়ে রাখা হয় খাবার। খেতে খেতে নানা রকম গল্পে মেতে ওঠেন অতিথিরা। জানতে পারেন রান্নাগুলোর নেপথ্যের ঘটনা।

কাজীবাড়ির ঐতিহ্য এভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন দুই ভাই। ৫০০ বছরের ইতিহাসে ঠাসা বাড়িটি আপনিও ঘুরে আসতে পারেন।

ঠিকানা: কাজীবাড়ি হেরিটেজ স্টেট, ১২ রোকনপুর, ৩য় লেন কলতাবাজার, ধোলাইখাল রোড, পুরান ঢাকা। আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে।

লেখাটি বর্ণিল খাবারদাবার ২০২৪— এ প্রকাশিত

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সৌজন্য সাক্ষাৎ, আবাসন খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
বসুন্ধরায় নেক্স রিয়েল এস্টেট-এর প্রিমিয়াম লাক্সারি আবাসন প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ ও লাইফস্টাইলের সুযোগ